জমে উঠেছে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক মাঠ, প্রার্থীরা প্রচারণায় নেমেছেন প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। নতুন আসন বিন্যাসের ও প্রতীক বরাদ্দের পর জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারণায় নেমেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নির্বাচনি মাঠে অনুপস্থিতির ফলে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে অসন্তোষ এবং জামায়াতের সুসংগঠিত মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি-এ দুই বাস্তবতায় সাতক্ষীরার চারটি আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর দুর্গ হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরার সবকটি আসন বিএনপি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সাতটি উপজেলা, আটটি থানা, তিনটি পৌরসভা ও ৭৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২৪ জন। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাই সাতক্ষীরায় ভোটের মাঠে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো সংকট। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের সাতক্ষীরার ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে জামায়াত ও একটিতে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে জামায়াত সদর আসনে জয় পায়। বাকি ৪টি যায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দখলে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৩টি আসনে জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনেই প্রথম সাতক্ষীরা-১ আসনে জয় পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আসন সংখ্যা কমে ৪টি হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত একটি আসনও পায়নি। সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): এ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ), জামায়াতের মো. ইজ্জত উল্লাহ (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো. রেজাউল ইসলাম (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান (লাঙ্গল) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের এড. ইয়ারুল ইসলাম ডাব প্রতীকে লড়াই করবেন। সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, গত ১৬ বছরে তালা ও কলরোয়ায় ব্রীজ, রাস্তা ঘাটসহ অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন না হওয়াই জনগণ এবার আমাকে পেয়ে আমার কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এলাকার জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক পাটকেলঘাটা থানাকে উপজেলায় রূপান্তর ও তালাকে পৌরসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং তালা ও কলারোয়াতে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নের পরিকল্পনা করবেন তিনি। একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ও তার দল সাধারণ মানুষের পাশে ছিল। নির্বাচিত হলে স্থানীয় মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নে উদ্যোগ নেবেন। সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): এ আসনে বিএনপির আব্দুর রউফ (ধানের শীষ), জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জাসদের ইদ্রিস আলী (মোটরগাড়ী, কার) ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবিউল ইসলাম (হাতপাখা)। বিএনপির প্রার্থী আবদুর রউফ বলেন, সাধারণ ভোটাররা তাকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন। সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রশ্নে বিএনপির সবাই এখন এক। সাতক্ষীরায় বিএনপি এখন খুব শক্তিশালী। আমি পাস করলে জনগণের পাশে থাকব সব সময়। জনগণের সব চাওয়াকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আবদুল খালেক। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অতি পরিচিত একজন মুখ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের তার ও তার দলের উপর আস্থা রয়েছে। বিগত নিরপেক্ষ নির্বাচন গুলোতে মানুষের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য আমরা বদ্ধপরিকার। সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি): এ আসনে বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন (ধানের শীষ), বিএনপির (বহিস্কার) বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল), জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আলিপ হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা) ও বিএমজেপির রুবেল হোসেন (রকেট)। কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য সদ্য বহিস্কার ডা.শহিদুল আলম বলেন, তার দলীয় মনোনয়নের জন্য এ আসনের দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মাঠে নেমেছিলেন। বিএনপি থেকে তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবির মুখে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন বলেন, দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। অন্য কেউ প্রার্থী হতে চাইলে দল থেকে তার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, দুঃসময়ে তিনি ও দল সাধারণ ভোটারদের পাশে ছিল। তিনি আরও বলেন, তারা তাকে ও দলকে মূল্যায়ন করবেন। তিনি পাশ করলে সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়া ও গুরুত্বকে সবসময় প্রাধান্য দেবেন। একই আসনে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, শহিদুল আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যা জামায়াতের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা শাখার সাবেক আমির মুহা. রবিউল বাসার জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ভোটাররা সৎ মানুষকে পছন্দ করেন ও আস্থা রাখেন। আমি সব সময় সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): এ আসনে বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (ধানের শীষ), জামায়াতের জিএম নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আব্দুর রশীদ (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলনের এইচ এম মিজানুর রহমান (হাতপাখা)। বিএনপির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি পাঁচ বছর ধরে জনসাধারণের ভালোমন্দে পাশে থাকার পাশাপাশি শ্যামনগর উন্নয়নে, বিশেষ করে তরুণসমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন। একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে তারা সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন। ভবিষ্যতে ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করবেন। ভোটারদের তার প্রতি আস্থা রয়েছে। তারা শত ও যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেবে। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ বলেন, দীর্ঘ নির্যাতনের পরও আমাদের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে ছিলেন। আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি সবাই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে সাতক্ষীরার ৪টি আসনেই বিএনপিকে জয়ী করবে বলে তার বিশ্বাস রয়েছে। অপরদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল আজিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী উল্লেখ করে বলেন, কঠিন দিন গুলোতেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি আমরা। ৪টি আসনেই বিজয়ী হবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বলে তিনি আশাবাদী। এসজি/ডেক্স সংবাদটি ২০২ বার পড়া হয়েছে আপনার মতামত লিখুন : আরও পড়ুন সাতক্ষীরার ৪টি আসনে ৮টি প্রতীকে লড়বেন ২০জন প্রার্থী দীর্ঘ ১৬ বছর পর সাতক্ষীরায় জামায়াতের রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত