পাইকগাছায় ভ্যান চুরির টাকার ভাগ নিয়ে ইব্রাহীম হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী আকবর আটক

প্রকাশিত: ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ | আপডেট: ১০:১৫:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২১

পাইকগাছার সলুয়ার মাঠের মধ্যে ডোবা থেকে উদ্ধারকৃত ইব্রাহীম মোড়ল হত্যায় উপজেলার আদালত সংলগ্ন মোটর সাইকেল স্ট্যান্ড থেকে আকবর ফকির (৩৯) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ইব্রাহীমকে হত্যার কথা স্বীকার করে ভ্যানচুরির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তাকে হত্যা করেছে বলে জানায়। তার সাথে আরো একজন জড়িত রয়েছে বলেও স্বীকার করে সে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বুধবার সকালে পুলিশ তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়।এ সময় উৎসুখ জনতা,সাংবাদিক,পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সামনে হত্যাকান্ডের ঘটনা বর্ননা করে ধৃত আকবর।

আটক আকবর উপজেলার খাটুমারী বেতবুনিয়া আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা। সে ঐ এলাকার বাবুল ফকিরের ছেলে।

গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে আদালত সংলগ্ন মোটর সাইকেল স্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করে। তারা দীর্ঘ দিন যাবৎ অত্রাঞ্চলের ভ্যান চুরি সিন্ডিকেটের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। প্রসঙ্গত, গত ৬ নভেম্বর বেলা ১১ টার দিকে পাইকগাছা থানা পুলিশ উপজেলার কপিলমুনির সলুয়া এলাকার একটি মাঠের মধ্যে ডোবা থেকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে ইব্রাহীমের লাশটি উদ্ধার করে। পরে তার বড় ভাই ইসমাইল হোসেন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও ছবি দেখে তার লাশটি শনাক্ত করে। ইব্রাহীম মোড়ল তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামের কাচের আলী মোড়লের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ক্ষেত মালিক আছাদুল ইসলাম প্রতিদিনের ন্যায় ঘটনাস্থল নিজ ক্ষেত পরিচর্যায় সেখানে গিয়ে ডোবায় ভাসমান লাশটি দেখে প্রথমে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ি ও পরে থানা পুলিশে খবর দেন। পরে বেলা ১১ টার দিকে থানা ফুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এরপর প্রথমে জনৈক সাংবাদিকদের মাধ্যমে লাশের পরিচয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে থানা পুলিশ লাশের পরিচয় প্রকাশ করে। এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার নং-৪, তারিখ ০৬/১১/২১ ইং।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল আলীম জানান, মামলায় দীর্ঘ তদন্তে প্রথমে সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানায়,তার সাথে আরো একজন রয়েছে। ঘটনার দিন তারা দু’জন ইব্রাহীমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে একজন তার পা ও অপরজন গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে লাশটি ঐ ডোবায় ফেলে দেয়। তিনি আরো জানান, আটক আকবর জিজ্ঞাসাবাদে তারা সংঘবদ্ধ ভ্যানচুরি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতো বলে জানায়। আর ভ্যানচুরির টাকা ভাগাভাগির ঘটনাটিকে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনাটি ঘটে বলে জানানো হয়।

এ ঘটনায় পাইকগাছা থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, হত্যা কান্ডে জড়িত আকবর ফকির সহ বাকিদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আটক আকবরকে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় তার জবান্দী রেকর্ড করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

আমিনুল ইসলাম বজলু। নিজস্ব প্রতিবেদক। পাইকগাছা, খুলনা