ঐতিহ্যবাহী ঘানি শিল্পকে আজও আকঁড়ে ধরে রেখেছে ডুমুরিয়ার দুটি পরিবার

প্রকাশিত: ২:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২১ | আপডেট: ২:৪৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২১

গ্রাম বাংলা ঐহিত্যবাহী ঘানি শিল্প আজও আকঁড়ে ধরে আছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া গ্রামের দুটি পরিবার। আজও তাদের জীবন ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই ঘানি শিল্প।

আধুনিক আর ডিজিটাল যন্ত্রপাতির অতল গহব্বরে হারিয়ে যেতে বসেছে আবহমান গ্রাম বাংলার অনেক ঐহিত্যবাহী শিল্প। এই হারিয়ে যাওয়ার ভিড়ে আজও ঐহিত্যবাহী ঘানি শিল্পকে আকঁড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছে ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়নের একেবারে সীমান্তবর্তী এলাকা নরনিয়া গ্রারের মৃত ইসমাইল বিশ্বাসের পুত্র আব্দুল গফুর বিশ্বাস ও মৃত বাবর আলী সরদারের পুত্র আব্দুল ওয়াদুদ সরদার। এই ঘানি শিল্পকে ধরে রাখার জন্য অন্য পেশাকে তারা আজও গুরুত্বহীন মনে করেন। এশিল্প যেন তাদের রক্তের প্রতিটি কণায় মিশে আছে।

তারা বলেন, গরু দিয়ে ঘানি টেনে খাঁটি সরিষার তেল বানানো তাদের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত একটি পেশা। পূর্বে তাদের দুই পুরুষ এই ঘানির কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেছেন। একাজে তাদের স্ত্রী,পুত্র ও কন্যারাও সহযোগীতা করেন। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ও পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য আজও তারা ঘানি শিল্পকে আকঁড়ে ধরে রেখেছেন। তবে ঘানি শিল্পের সে দিন এখন আর নেই। একাজ করে বর্তমানে জিবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নরনিয়া গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আফসার হোসেন বলেন,ছোট বেলায় দেখেছি ঘানির খাঁটি সরিষার তেল ক্রয়ের জন্য মানুষ ভোর থেকে এখানে জমায়েত হত। অনেক সময় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তেল ক্রয় করত। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতির কারণে গ্রামের ঐতিহ্য ঘানি শিল্প বিলুপ্ত হতে চলেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এম এ সালাম বলেন, আমার পিতা এক সময় জমিতে সরিষা রোপন করতেন। সেই সরিষা আমাদের বাজারের বিক্রয় করার কোন সুযোগ ছিল না। তার আগেই ইসমাইল বিশ্বাস ও বাবর আলী বিশ্বাসরা বাড়ি থেকে ক্রয় করে নিয়ে যেতেন। কারণ তাদের সরিষার তেলের এত চাহিদা ছিল যে তারা সরিষা জোগাড় করে পারতেন না। কিন্তু বর্তমানে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। ইতি মধ্যে ২/৩টি পরিবার এ কাজও ছেড়ে দিয়েছেন। ঐহিত্যবাহী এশিল্পকে ধরে রাখার জন্য দুটি পরিবারকে তিনি ধন্যবাদ জানান এবং সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সকলকে সরিষার তেল খাওয়ার অনুরোধ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

গাজী আব্দুল কুদ্দুস। নিজস্ব প্রতিবেদক। চুকনগর, খুলনা