জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করায় লক্ষ লক্ষ টাকার ফসল নষ্ট

প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২১ | আপডেট: ৪:৪৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২১

চুকনগরে প্রায় ১শ বছরের পানি সরবরাহের পথে মাটি ভরাট করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ১মাস ফসলী জমি পানি বন্দী থাকায় নষ্ট হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার ফসল। এঘটনায় কৃষি মহলের ফসলী জমির ফসলের ক্ষতিপূরণ ও বাঁধ অপসারণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ ৪টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

প্রাপ্ত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলাধীন কুলবাড়িয়া বরাতিয়া মৌজার অন্তর্গত নজরুল মালীর বাড়ি সংলগ্ন কালভার্ট অভিমুখে বরাতিয়া গ্রামের মৃত হামিদ শেখের পুত্র মোঃ কুদ্দুস শেখ দীর্ঘ ১শত বছরের পানি সরবরাহের জায়গায় মাটি দিয়ে ভরাট করায় ইসমাইল শেখের ১৫শতক পাট, মুক্তি সরকারের ১০শতক পাট, আশুতোষ সরকারের ১০শতক পাট, জিল্লু গাজীর ১৫শতক ঘাষ, মফিজুর শেখের ২২শতক পাট, হাসান গাজীর ১০শতক বেগুন, করিম সরদারের ৭শতক পাট, রবিউল সরদারের ১০শতক পাট, খানজাহানের বেগুন ১৩শতক ও ৫শতক পাট, অমল দাসের ২০শতক বেগুন, ভবেন দাসের ১৫শতক বেগুন, ১৫শতক পাট, ১৫শতক বরবটি ও ৫শতক ধুন্দল, মনি দাসের ১৫শতক পাট, বিনয় দাসের ১৫শতক পাট, অচিন্ত দাসের ৫শতক বেগুন, আনন্দ দাসের সিম ও বরবটি ১০শতক এবং হায়দার গোলদারের ১৫শতক পাট কৃষি মহলের ফসলি জমির ফসল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ইতিপূর্বে উক্ত বাঁধ এলাকার লোকজন কাটতে গেলে বিবাদী বাঁধা দেয় এবং অকথ্য ভাষা গালিগালাজ করে বিভিন্ন ধরনের হুমকী ধামকীসহ জীনবনাশের হুমকী দেয়। ফলে বৃষ্টির পানি বন্দী হয়ে উক্ত কৃষি এলাকার কৃষি মহল ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। এঘটনায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও),উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর ১৪০জন কৃষকের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এব্যাপারে বরাতিয়া গ্রামের সুকলাল দাস (৯৫), কওসার আলী শেখ (৯০) ও রবীন দাস (৭২) মফিজুর শেখ (৪৫) বলেন, বাপ দাদার আমল থেকে উক্ত পানি সরবরাহের জায়গা দিয়ে পানি সরবরাহ করে আসছে।

কিন্তু কুদ্দুস টাকার জোরে এই বর্ষার মৌসুমে পানি সরবরাহের জায়গায় মাটি ভরাট করে কৃষকের লক্ষ লক্ষ টাকা ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। এছাড়া কৃষকের প্রাণ হলো কৃষি ফসল। এ ফসল নষ্ট করায় তাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোন সময় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে। আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমি সোমবার ভোরে বাঁধটি কেটে দিয়ে পানি সরিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডঃ প্রতাপ রায় বলেন, কুদ্দুস নামে ক্ষ্যক্তিটি অনেক দিন ধরে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সাথে খামখেয়ালীপনা করছে। মানুষ হিসাবে সে একজন দখলবাজ টাইপের মানুষ। তবে আমাদের চাপের মুখে সোমবার ভোরে সে বাঁধটি কেটে দিয়ে জল নামিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তার কারণে কৃষকদের যে অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সে ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য আইনের আওতায় এনে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়ার জন্য সরকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

গাজী আব্দুল কুদ্দুস। নিজস্ব প্রতিবেদক। চুকনগর, খুলনা