ভোমরা স্থলবন্দরে দীর্ঘ লাইন পন্যবাহি ট্রাকের, কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি

প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২১ | আপডেট: ৭:১৪:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২১

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে ট্রাক থেকে পণ্য উঠানো নামানো গত এক সপ্তাহ যাবত বন্ধ রয়েছে। পন্য খালাসের অপেক্ষায় বন্দরে দীর্ঘ লাইন পড়ে গেছে পন্যবাহি ট্রাকের।
এর ফলে বন্দরের আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে এ বন্দর থেকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব। ব্যবসায়ীরা দু’বার লেবার বিল দিতে রাজী না হওয়ায় এ অচল অবস্থার তৈরী হয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার(৬ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে বিষয়টি নিরসনের জন্য সিএন্ডএফ নেতাসহ বন্দর সংশ্লিষ্টরা আলোচনায় বসেন। বিষয়টি নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকের অলিখিত আশ্বাসে শ্রমিকরা কাঁচামাল বাহি ট্রাক থেকে পন্য খালাস করলেও অন্যান্য পন্য বাহি ট্রাক থেকে তারা পন্য খালাস করছেননা।

সরকারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কোন কাগজ পত্র তাদের কাছে না আসলে তারা পন্য খালাস করবেননা বলে জানালেন সিএন্ডএফ নেতারা।
এদিকে, ভারতে ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় হাজার হাজার পন্য বাহি ট্রাক ভোমরা বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুব দ্রুত এসব মালামাল ভোমরা বন্দরে খালাস না করতে পারলে তারা প্রচুর ক্ষতির সম্মুখিন হবেন।

ভোমরা স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ট্রাক প্রতি লেবার ঠিকাদাররা তাদের বিল দেন ৩শ’ ৮০ টাকা। প্রায় ৪০ টন পণ্য খালাসে এই টাকায় তাদের কিছুই হয়না। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় শ্রমিকদের। এতদিন ট্রাক প্রতি ৫ থেকে ৭শ’ টাকা বকশিস দিতেন ব্যবসায়ীরা। এই বখশিসের টাকা বন্ধ করে দেয়ায় শ্রমিকরা গত বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) থেকে পন্য খালাসের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, তাদের দাবীসমুহ জেলা প্রশসকের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কোন কাগজ পত্র তাদের কাছে না আসলে তারা পন্য খালাস করবেননা বলে তিনি জানান।

তিনি আরো জানান, প্রতি টন পণ্য খালাসে সরকারের কাছে ৭২ টাকা করে পরিশোধ করতে হয় ব্যবসায়ীদের। এরসাথে লেবারদের ট্রাক প্রতি বকশিস দিতে হয় আরো ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। বাড়তি এই বকশিসের টাকা গোনা সম্ভব নয় বিধায় তারা লেবার ডাকা বন্ধ করে দিয়েছেন।

 

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার আমির মাহমুদ জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হতো। এ অচল অবস্থার কারনে তা অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে।

 

এসজি/ডেক্স


আপনার মতামত লিখুন :

নিজস্ব প্রতিবেদক। ডেক্স