আজ ৯ ডিসেম্বর কপিলমুনি ঐতিহাসিক মুক্ত দিবস

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০২০ | আপডেট: ৩:৪৩:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০২০
১৯৭১ সালে রায় সাহেবের এই বাড়ীটি পাকবাহিনী ঘাঁটি তৈরী করেছিল।

আজ ৯ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবস। কপিলমুনিবাসীর কাছে ঐতিহাসিক দিন এটি। অনেক আগে থেকে এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় বাংলাদেশের সব স্থানের চেয়ে এখানে নিরীহদের উপর নির্যাতনের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। ১৯৭১ সালের এই দিনে কপিলমুনির মুক্তিকামী অকুতোভয় ছেলেরা দেশের অন্যতম এ রাজাকার ঘাঁটিতে আঘাত এনে এলাকাটি শত্রুমুক্ত করেন।

জানা যায়, সরকারিভাবে আজ দিবসটি উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আলহাজ্ব এড. আ ক ম মোজাম্মেল হক (এমপি)। দুপুর ১২ টায় তিনি ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত কপিলমুনিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কমপ্লেক্সের শুভ উদ্বোধন ও যুদ্ধকালীন রাজাকারদের ব্যবহৃত সেই ঐতিহাসিক দূর্ভেদ্য ঘাঁটি রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর সুরম্য অট্টালিকাটি পরিদর্শন করবেন। বিকাল ৩ টায় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল এন্ড কলেজ ময়দানে মুক্তদিবস অনুষ্ঠানের সমাবেশে বক্তৃতা করবেন।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২১ জুলাই সাবেক এমএনএ এম এ গফুর ও লেঃ শামছুল আরেফিন এর নেতৃত্বে ১৮০ জনের মুক্তি বাহিনী কপিলমুনির দুর্ধর্ষ রাজাকারদের ভয়ংকর ঘাঁটিতে হানা দেয়, যুদ্ধ চলে একটানা ২৪ ঘন্টা। কিন্তু সেদিন রাজাকারদের কঠিন প্রতিরোধের মুখে তাদের পরাস্থ করা সম্ভব হয়নি । এরপর ২য় দফায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন মুক্তিযোদ্ধারা।

সহচরী বিদ্যামন্দির

সহচরী বিদ্যামন্দিরের এই মাঠে গন আদালতের রায়ে রাজাকারদের মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল।

৬ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১মিনিটে ১২টি ক্যাম্পের প্রায় ৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধার অংশগ্রহনে যুদ্ধ শুরু হয়। চারিদিক নিস্তব্দতা, মৃত্যু ভয়ে আতংকিত মানুষ ঘর ছেড়ে অন্যত্রে আশ্রায় নিচ্ছে। কোলাহলমুক্ত ভূতুড়ে পরিবেশ গোটা কপিলমুনিতে। শুরু হয় রাজাকার ঘাঁটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমণ। কপিলমুনির পার্শ¦বর্তী নাছিরপুর খালের কাঠের পুলের উপর মুক্তিবাহিনীকে রাজাকাররা চ্যালেঞ্জ করতেই মুক্তিবাহিনীর মেশিনগান গর্জে ওঠে। সেখানে ৮জন রাজাকার গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করে। এরপর মুক্তিবাহিনী কপিলমুনির নাথপাড়ায় ডিউটিরত রাজাকার ও তার সহযোগীদের বহু সদস্যকে গুলি করে মারতে সক্ষম হয়। কপোতাক্ষ নদীর ওপার অর্থাৎ সাতক্ষীরার কানাইদিয়া থেকে আরসিএলের আওয়াজ গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে। চতুর্দিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণ শুরু করে মুক্তিবাহিনী। দীর্ঘ সময় যুদ্ধের পর আনোয়ার হোসেন মাথায় গুলি বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। এসময় তোরাব আলীর পেটে গুলি লেগে আহত হন। ৭ ও ৮ ডিসেম্বর তারিখ বিরতীহীনভাবে যুদ্ধ চলে, ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাজাকাররা দূর্বল হয়ে পড়ে। এসময় ক্যাম্পের ১৫৫জন রাজাকার মুক্তি বাহিনীর কাছে শর্তহীন আত্মসমার্পন করে। এরপর কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরের মাঠে জনতার আদালতের রায়ে ৭জন দূর্ধর্ষ রাজাকারকে কঠোর শাস্তি দিয়ে হত্যা করা হয় এবং বাকিদের রশি দিয়ে বেঁধে সারিবদ্ধভাবে প্রকাশ্যে গুলি করে মারা হয়।

এদিকে আজকের এ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে কপিলমুনি আঞ্চলিক মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতি পৃথকভাবে কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। আজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সমিতি কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৮ টায় বদ্ধভূমির স্মৃতিসৌধে মাল্যদান, সাড়ে ৯ টায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

এইচ এম এ হাশেম। নিজস্ব প্রতিবেদক। কপিলমুনি, খুলনা