শ্যামনগরে ১২ নভেম্বরকে ‘উপকূল দিবস’ ঘোষণার দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৫:০৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০২০ | আপডেট: ৫:০৯:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০২০

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর ভোলা সাইক্লোনের ৫০ বছর পূর্তি, ঘূর্ণিঝড়ে প্রয়াত উপকূলবাসীর স্মরণ এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘উপকূল দিবস’ ঘোষনার দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শ্যামনগরের চৌদ্দরশি ব্রিজের উপর উক্ত মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অ্যাকশন এইড, কোস্টাল ইয়ুথ অ্যাকশন হাব, ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস ও বাংলাদেশ মডেল ইয়ুথ পার্লামেন্টের ব্যানারে উক্ত মানববন্ধন ও সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয় হয়।

ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির সাবেক সভাপতি মুহতারাম বিল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের সাতক্ষীরা ইউনিটের সমন্বয়কারী শাহিন বিল্লাহ, স্টুডেন্ট সোসাইটির সভাপতি শেখ শাকিল হোসেন, ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম, তানভীর মেহেদী নান্নু, আতিয়ার রহমান, আফজাল হোসেন, মোস্তাফা আল-আমিন, আবু তাহের, আব্দুল কাদের, সাদিয়া সুলতানা, আবু রায়হান, আমানুল্লাহ আমান প্রমূখ।

১২ নভেম্বরকে ‘উপকূল দিবস’ ঘোষণার দাবির মধ্যদিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘ভোলা সাইক্লোন’ এর ৫০ বর্ষপূর্তি, ঘূর্ণিঝড়ে প্রয়াত উপকূলবাসীর স্মরণ এবং প্রস্তাবিত উপকূল দিবস পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সকালে এ উপলক্ষে ‘উপকূলের জন্য হোক একটি দিন, জোরালো হোক উপকূল সুরক্ষার দাবি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শ্যামনগরের চৌদ্দরশি ব্রিজের উপর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অ্যাকশন এইড, কোস্টাল ইয়ুথ অ্যাকশন হাব, ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস, বাংলাদেশ মডেল ইয়ুথ পার্লামেন্টের ব্যানারে এবং গাবুরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, ম্যানগ্রোভ স্টুডেন্ট সোসাইটি, সাউদার্ন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ও হিউম্যানিটি ফার্স্ট এর বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জলবায়ু সুবিচার ও উপকূলবাসীর স্বার্থ সুরক্ষায় ১২ নভেম্বরকে উপকূল দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের উপকূলে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলের বিপুল জনগোষ্ঠী জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। তা সত্ত্বেও উপকূলের প্রায় ৫ কোটি মানুষ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। উপকূলের বহু এলাকা অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে যুগের পর যুগ। উপকূলবাসীর সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি দিবস ঘোষণা এখন সময়ের দাবি। উপকূল দিবস ঘোষণা করা হলে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, সংবাদ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে উপকূলের গুরুত্ব বাড়বে। এর মাধ্যমে উপকূলের সুরক্ষা ও সেখানকার জনগোষ্ঠীর অধিকার ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে। বক্তারা অবিলম্বে ১২ নভেম্বরকে উপকূল দিবস ঘোষণা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

 

এর আগে একই দাবিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুরের মানুষের অংশ গ্রহণে একটি র‌্যালি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

 

প্রসঙ্গত, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ‘ভোলা সাইক্লোন’ উপকূলে আঘাত হানে। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মতে ভোলা সাইক্লোন পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ঙ্করতম প্রাণঘাতী একটি ঝড়।

 

এসজি/ডেক্স


আপনার মতামত লিখুন :

নিজস্ব প্রতিবেদক। ডেক্স