কলারোয়ায় একই পরিবারের চারজনকে চাপাতি দিয়ে একাই হত্যা করে ছোট ভাই রায়হানুল

প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০ | আপডেট: ৭:২৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বড়ভাই শাহিনুলসহ পরিবারের ৪ সদস্যকে চাপাতি দিয়ে একাই হত্যা করেছে ছোট ভাই রায়হানুল। বিকেলে সাতক্ষীরা সিআইডি অফিসে সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য দেন সিআইডির খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক। তবে কাউকে জানানোর ভয় না থাকায় শিশু মারিয়াকে হত্যা করা হয়নি বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রায়হানুল বেকার ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় খাওয়ার খোটা দিয়ে তাকে ব্যাপক গালমন্দ করে ভাবী সাবিনা খাতুন। তখনই সে ভাবীকে হত্যার পরিকল্পনা আটে। রাতে টিভি দেখার সময় বিদ্যুৎ বিল বেশি হবে বলে তাকে বকা দেয় বড় ভাই শাহিনুল। এসময় সে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকেও হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে সে কোমল পানীয়ের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে ভাই ও ভাবীকে খাওয়ায়। রাতে দরজা না লাগিয়ে বাইরের কলাপসিবল গেট লাগিয়ে শাহিনুলসহ পরিবারের সবাই ঘুমাতে যায়। রাতের শেষ ভাগে সে গাছ বেয়ে চিলে কোটা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে ঘুমন্ত ভাইকে হত্যার করে পরে ভাবীকে চাপাতি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। ছেলে সিয়াম ও মেয়ে তাসনিম জেগে যাওয়ায় তাদেরকেও হত্যা করে রায়হানুল। পরে সে চাপাতি পুকুরে ফেলে গোসল করে ঘুমাতে যায়। রায়হানুলের স্বীকারোক্তিতে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এসময় তিনি জানান, রায়হানুলকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরা সিআইডি পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

১৫ অক্টোবর ভোর রাতে সাতক্ষীরার কলারোয়ার খলশি গ্রামে মাছ ব্যবসায়ী শাহিনুল ইসলামসহ পরিবারের ৪ সদস্যকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। রাতে শাহিনুলের শ্বাশুড়ি ময়না খাতুন বাদি হয়ে কলারোয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সি আইডি পুলিশকে। হত্যার দিনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় নিহতের ছোটভাই রায়হানুলকে। পরের দিন রায়হানুলকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে রায়হানুলকে পুলিশের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

 

এসজি/ডেক্স


আপনার মতামত লিখুন :

নিজস্ব প্রতিবেদক। ডেক্স