ভুয়া ডিআইজি’র ফোনকলে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজী, তালা থানার এসআই আনোয়ার ক্লোজড

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০ | আপডেট: ৭:০৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০
তালা থানার এস,আই আনোয়ার হোসেন

দেশের বাড়ী একই জেলায় তাই ডিআইজি স্যার আমাকে ৩ জেলার ৫ টি উপজেলার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি চাইলে আপনার সম্পদ থাকবে আর না চাইলে অন্যের হয়ে যাবে ! দাড়ান স্যার ফোন করেছে, কোন কথা বলবেন না, স্যার বলেছে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে জায়গা খালি করে দিতে। ঠিক এভাবেই ধোঁকা দিয়ে উর্দ্ধত্বন পুলিশকর্তা (ডিআইজির)’র নাম ভাঙ্গিয়ে তালা-ডুমুরিয়া-কেশবপুর অঞ্চলে একের পর এক ঘের দখল, জমি দখল, মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা’ হাতিয়ে নিয়েছেন তালা থানার এস,আই আনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগী ডিআইজি ’র ভাগনে পরিচয়দান কারী আঠারমাইল এলাকার জিন্নাত আলী শেখ (৩৫)। মনিরামপুর, কেশবপুর, ডুমুরিয়া, তালা, পাইকগাছা, কয়রা থানা এলাকা পর্যন্ত তাদের প্রভাব চলতো। স্থানীয় থানা ও পুলিশ ক্যাম্পের কতিপয় পুলিশকর্তার যোগসাজসে একের পর এক ঘের দখল, জমি দখল, মামলা থেকে অব্যহতি সহ নানা পুলিশি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা’ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।

অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় থানার ওসি ও পুলিশ ক্যাম্পের আই সি কেও বোকা বানিয়ে ঘোড়া ডিঙ্গিয়ে ঘাস খেয়েছে আনোয়ার দারোগা। কোথাও ঘের দখল, কোথাও জমি দখল,আবার কোথাও দোকান থেকে বাকীতে লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল নিতে নিজ থানা এলাকা পেরিয়ে জিন্নাতের সাথে অন্য থানা এলাকায় অবাধ দাপট দেখিয়ে বেড়িয়েছেন আনোয়ার দারোগা।

সম্প্রতি ডুমুরিয়া মাগুরাগোনা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের করা প্রতারনা মামলায় জিন্নাত শেখ (৩৫) কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাছানো হয়। একই সাথে তালা থানার এস আই আনোয়ার হোসেনকে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। এদিকে জিন্নাত গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয় থানা ও পুলিশ ফাড়ির বেশ কয়েক কর্তা ব্যক্তির মাঝে ক্লোজড আতংক বিরাজ করছে।

সরেজমিন তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া, কেশবপুরের হিজলডাঙ্গা, ডুমুরিয়া উপজেলার মাগরাঘোনা , আঠারোমাইল, চুকনগর এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগী দের সাথে আলাপ করে (ভিডিও রেকর্ড) জানাযায়, উর্দ্ধত্বন পুলিশকর্তা ’র ভাগনে পরিচয়দান কারী আলাদিনের চেরাগ হাতে হঠাৎ কোটিপতি বনে যাওয়া আঠারো মাইল এলাকার হুগলাডাঙ্গা গ্রামের সাহেব আলী শেখের পুত্র জিন্নাত আলী শেখ ওরফে জিন্নাত খোড়া (৩৫) দির্ঘদিন যাবৎ উর্দ্ধত্বন পুলিশকর্তা (ডিআইজির)’র ভাগনে পরিচয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজী করে আসছিল। তার এ সকল চাঁদাবজীতে প্রত্যক্ষ সহযোগীতা করেছেন তালা খানার এস আই আনোয়ার হোসেন।

ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরা ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন জানান, (ভিডিও ধারণ) জিন্নাতের প্রাতারনায় তালা থানার আনোয়ার দারোগা সহ ১৮ মাইলের কামরুল, জাতপুর বাজারের টিক্কা, আরশনগরের ওসিয়ার রহমান চৌধুরী, তেঁতুলিয়া আড়ংপাড়ার বাবু মেম্বর জড়িত। তারা বিভিন্ন সময় ডিআইজি মামাকে মাছ দিতে হবে, ডিআইজি সাহেবের ওয়াইফ আসছেন ইত্যাদি বলে ও চাঁদাবাজী করেছে। আমার ছেলের দোকান থেকে বাকীতে ৫/৬ লক্ষ টাকার রড,সিমেন্ট নিয়ে টাকা না দিয়ে ডিআইজি সাহেবের ফোন ধরিয়ে দেওয়ায় আমার সন্দেহ হয়। পরে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে একজন প্রতারক।

তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সরদার রফিকুল ইসলাম জনান, জিন্নাতের কথামত তালা থানার আনোয়ার দারোগা সহ ওসি আমার এলাকার ৪/৫ টি ঘের থেকে ব্যবসায়ীদের তাড়িয়ে টাকার বিনিময়ে প্রতিপক্ষের দখলে দিয়েছে। তেঁতুলিয়া ইউপি সদস্য বাবর আলী বলেন আমি কোন সহযোগী না ,আনোয়ার দারোগা এবং জিন্নাত ঘের দখল পাইয়ে দেওয়ার জন্য আমার কাছ থেকে ডি আইজির কথা বলে টাকা নিয়েছে, তবে আমার কাজ করে দিয়েছে।

১৮ মাইল এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা কমরুল ইসলাম (৪০) বলেন, ০১৯১০-৭৭৭০৬৭ নম্বরের মোবাইল ফোন থেকে ডিআইজি পরিচয়ে আমার সাথে কথা হয়েছে। সে আমকে শুধু জিন্নাতকে সহযোগীতার কথা বলেছে। জাতপুর বজার বনিক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন টিক্কা নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে জানান, ০১৭২০-৬৬৬২৭৮ নং- মাবাইল থেকে আমাকে কল দিয়ে ডিআইজি পরিচয়ে জিন্নাতকে সহযোগীতা করতে বলে।

জিন্নাতের প্রতারনার স্বীকার ১৮ মাইলের ডাচবাংলা ব্যাংকের মাহবুব, শাহদাত হালদার, মাছ ব্যবসায়ী সামছুর রহমান, পানের দোকানদার প্রতিবন্ধি খালেক সরদার, আলাদীপুরের শাহিনুর রহমান জানান, ডি আইজির ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জিন্নাত ও তালা থানার এস আই আনোয়ার।
জিন্নাতের প্রতারনার স্বীকার শিরাশীনি গ্রামের সোহবার হোসেন জানান, তালা থানার এস আই আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আমাকে ডি আইজির ভয় দেখিয়ে মৎস্য ঘের ছেড়ে দিতে বাধ্য করে।

আরশনগর পুলিশ ক্যাম্প’র আই সি মোহাম্মদ চুন্নু শেখ জানান, জিন্নাতের বাড়ীর ছাদ ঢালাইয়ের দিন ডুমুরিয়া ওসি আসার খবরে আসার খবরে আমি সেখানে যায়, গিয়ে দেখি তালা থানা ওসি মেহেদী রাসেল ও দারোগা আনোয়ার জিন্নাতের বাড়ীর কাজের তদারকি করছে।

তালা থানার এস আই আনোয়ার জানান, জিন্নাতের দেওয়া একটি ভূয়া মোবাইল নাম্বার থেকে ডি আই জি পরিচয়ে আমার কাজে কল আসতো, নাম্বারটি এখন বন্ধ পাচ্ছি।
তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মেহেদী রাসেল জানান, জিন্নাত আামাদের কেও ভূল বুঝিয়েছে।

তালা থানার এস আই আনোয়ার ক্লোজড হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কি কারনে তাদের ক্লোজড সেটা বলতে পারবো না।

ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, তার বিরুদ্ধে পুলিশ কর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারনার অভিযোগ রয়েছে। প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জিন্নাত তালা থানা পুলিশকে ব্যবহার করতে পারলেও আমাদের এখানে তেমন কিছু করার সুযোগ পায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

নিজস্ব প্রতিবেদক। তালা, সাতক্ষীরা