সাতক্ষীরায় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২০ | আপডেট: ৫:৪৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২০
তালা উপজেলার শ্রীমন্তকাটি বাজার থেকে ছবিটি আজ তোলা। ছবি: শাহীন গোলদার

সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে সাতক্ষীরায় ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতি।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে জেলায় প্রশাসনের যে কঠোর নজরদারি ছিল, এখন আর তেমন কোন তৎপরতা নেই।  ফলে মাস্কের ব্যবহারও তেমন একটা নেই।  মাস্ক ছাড়াই লোকজন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যেন করোনাভাইরাস বলতে কিছু আর নেই।  অন্যদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেও চলাচল করতে দেখা যাচ্ছেনা।  এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন সাতক্ষীরার অনেক সচেতন নাগরিক।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরার কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসা মতিয়ার রহমান, বিপ্লব রহমানসহ বেশ কয়েকজন তাদের এই উদ্বেগের কথা বলছিলেন।  তারা প্রশাসনের শিথিল অবস্থাটিকে বড় করে দেখাচ্ছিলেন।  আর এ কারণে সাতক্ষীরায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

সীমান্তের এই জেলায়  নতুন করে দুই স্বাস্থ্য কর্মীসহ ৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।  এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০৪৮। 

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. জয়ন্ত সরকার জানান, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল সর্বপ্রথম সাতক্ষীরায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।  এরপর থেকে সাতক্ষীরায় একে একে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

জেলা থেকে এ পর্যন্ত ৪৯৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়।  এরমধ্যে ৩৭৯৮ জনের নমুনার রিপোর্ট এসেছে।  সেখানে ১০৪৮ জনের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯ জন।  আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো অন্তত প্রায় শতাধিক।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম জানান, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার জন্য সচেতন মহল প্রশাসনকে দায়ী করেছেন।  তাদের মতে, এ জেলায় আগের মত প্রশাসনের কোন কঠোর নজরদারি ও আইনের প্রয়োগ না থাকায় সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না।  এর ফলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াতও স্বীকার করেন, সাধারণ মানুষ আগের মত স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তাই রোগির সংখ্যা বাড়ছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল জানান, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা ও মাস্ক না পরাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ পর্যন্ত অর্ধ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

নিজস্ব প্রতিবেদক। ডেক্স