শ্যামনগরের গাবুরায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে দুটি গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২০ | আপডেট: ৯:৪০:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২০
শ্যামনগরের গাবুরায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে দুটি গ্রাম প্লাবিত

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকুলীয় উপজেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরায় প্রায় এক’শ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে দুটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে সহস্রাধিক বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কপোতাক্ষ নদের প্রবল জোয়ারের চাপে গাবুরা ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া গ্রামের ৬ টি স্থানে রিংবাঁধ ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-২ এর নির্বাহি প্রকৌশলী সুধায়শ কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে একই স্থানে বেঁড়িবাধ ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলমের নেতৃত্বে হাজার হাজার এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে সে সময় রিংবাধ দিয়ে কোন রকম বেঁড়িবাধটি টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু আজ দুপুরের প্রবল জোয়ারে তা আবারও ভেঙে গেছে। তারা আরো জানান, এখনই যদি বেড়িবাধটি সংস্কার করা না হয় তাহলে পরবর্তী জোয়ারে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হবে।

স্থানীয় গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত লেবুবুনিয়ার এই বেড়িবাধটি সংস্কারের জন্য সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু তারা এখনও কাজ শুরু করেননি। তার মধ্যে আজ দুপুরের জোয়ারে রিংবাধটি ভেঙে আবার লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। তিনি আরো জানান, দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার করা সম্ভব না হলে গোটা গাবুরা ইউনিয়ন প্লাবিত হবে।

(পাউবো) বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের আরও জানান, ইতিমধ্যে বেঁড়িবাধ ভাঙন কবলিত লেবুবুনিয়ায় বালুর বস্তা পাঠানো হয়েছে। এখন জোয়ার চলছে। ভাটা শুরু হলেই বাধ সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। তিনি আরো জানান, এখন বর্ষকাল চলছে। এ সময় নদীর পানি বেশী থাকার কারনে সেনাবাহিনী এখনও বেঁড়িবাধ সংস্কারের কাজ শুরু করেননি। তারা শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই সেখানে টেকসই বেঁড়িবাধ সংস্কারের কাজ শুরু করবেন বলে এই পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা জানান।

এদিকে, আশাশুনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসিম বরন চক্রবর্তী জানান, তার উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের হিজলিয়া ও কোলা এবং আশাশুনি সদর ইউনিয়নের দয়ারঘাট এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত রিংবাধ ভেঙে দুটি ইউনিয়নের ৪/৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি।

তবে, (পাউবো) বিভাগ-২ এর নির্বাহি প্রকৌশলী সুধায়শ কুমার সরকার আরও জানান, তিনি বর্তানে ট্রলার যোগে তার বিভাগের অশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন। পরিদর্শন শেষ না হলে তিনি কিছুই বলতে পারবেননা।


আপনার মতামত লিখুন :

নিজস্ব প্রতিবেদক। ডেক্স