পাটকেলঘাটায় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কার্ডে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:২৮ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২০ | আপডেট: ৮:২৮:অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২০

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস(কোভিড-১৯) এর প্রভাবে পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন সংকটে প্রায়। বাংলাদেশের অসহায়, কর্মহীন, সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য ত্রান সহ বিভিন্নভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মানবিক সহায়তা প্রদান করছেন। বর্তমান পেক্ষাপট অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অসহায় মানুষের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশষ্যসহ আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষনা দিয়েছেন।

সোহাগ মাল্টিমিডিয়া এন্ড ট্র্যাভেলস

এরই অংশ হিসেবে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার ৩নং সরুলিয়া ইউনিয়নে চলছে তালিকা প্রনয়ন। এই তালিকা প্রনয়নে ১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নাসের সরদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বজনপ্রতির অভিযোগ উঠেছে। সরুলিয়া ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা কার্ডে বরাদ্ধ হয় ৮২০টি। এরই মধ্যে ৭৮টি ১নং ওয়ার্ড(সরুলিয়া, সৈয়দপুর গ্রাম) তালিকায় যাচাই-বাচাই করে দেখা গেছে, একই নামে দু’বার কার্ড, স্ত্রীর নামে ভিজিডি, পিতা অথবা পুত্রের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী কার্ড থাকা স্বত্বেও, তাছাড়া নিজের পরিবার-পরিজনের নামে তালিকাসহ স্বচ্ছল পরিবারের নামে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা তালিকায় এদেরও নাম অর্šÍভূক্ত হয়েছে।

বুধবার(১৩ মে) সরেজমিনে গিয়ে তথ্যানুসন্ধান করতে গেলে সুন্দরবনটাইমস.কম কে এলাকাবাসী জানায়, ইউপি সদস্য নাসের সরদারের দেওয়া তালিকায় দেখা গেছে, তালিকার ২নং সিরিয়ালে আয়ুব আলী। যাহার স্ত্রীর নামে ভিজিডি কার্ড ও নিজের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী কার্ড রয়েছে। ৭নং সিরিয়ালে নাসরিন নাহার। যাহা ৭৮নম্বরেও একই নাম দেখা যায়। ১০নং সিরিয়ালে গুলনিশান বেগম। যাহার স্বামী একজন বৈদেশিক কর্মী। ১২নং সিরিয়াল সিদ্দিক গাজী। যাহার পিতার নামে চাউলের কার্ড রয়েছে। ১৯নং তপন কুমার ঘোষ। সরুলিয়া বাজারে বড় মুদির দোকান রয়েছে তার। ২২নং অসিম কুমার ঘোষ। যাহার ২টি মিষ্টি দোকান রয়েছে। ২৬নং সুব্রত কুমার। যাহার দ্বিতল বিশিষ্ট বাড়ী রয়েছে ও খুলনার তৃষ্ণা সুইটস এর মালিক তিনি। ২৭নং সন্ধ্যা রানী ঘোষের যৌথ পরিবার। তাহার ছেলে ব্র্যাক এনজিওতে চাকুরি করে ও পুত্রবধু সরকারী প্রাথামিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাছাড়া তাদের জমি রয়েছে ১০ বিঘা। ২৯নং উত্তম ঘোষ ডিস লাইনের মালিক। ৩০নং ঝরনা রানী ঘোষ দ্বিতলা বিশিষ্ট বাড়ী ও ছেলে ডিফেন্স এ চাকুরি করেন। ৩৪নং আঞ্জুয়ারা বেগম। যাহার জমি আছে ২০ বিঘা এবং ছেলে প্রায় ১লক্ষ টাকা বেতনের চাকুরী করেন। ৪২নং আশরোপ সরদার। যাহার জমি ৭বিঘা ও পাকা বাড়ী রয়েছে। ৪৮নং মাসুদ রানা। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী। তাহার মায়ের নামে ৩০ কেজি চাউলের কার্ডও রয়েছে। তাছাড়া পাকা বাড়ী রয়েছে। ৫৪নং রিয়াজ আলি। ৮-১০ বিঘা জমির মালিক তিনি এবং পুত্র বিদেশ থাকে। ৬২নং আব্দুল খালেক। তিনি ইউপি সদস্য নাসের সরদারের আপন ভাই। যাহার ৭ বিঘা জমিও রয়েছে। ৬৯নং নুরুজ্জামান। তাহার স্ত্রীর নামে ৩০ কেজি চাউলের কার্ড এবং বড় পাকা বাড়ী রয়েছে। ৭১নং নিয়তি রানী ঘোষ। তিনি স্বচ্ছল পরিবারের সদস্য। ৭৪নং শুশান্ত মিত্র। যাহার সরুলিয়া বাজারে মন্দিরের পাশে বহু দোকান রয়েছে। যাহা তিনি ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ৭৭নং মুজিবর। তিনি এজন স্বচ্ছল পরিবারের সদস্য।

এলাকাবাসীরা আরো জনান, ইউপি সদস্য নাসের সরদার একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও প্রধানমন্ত্রী আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্ধ নিয়ে সে ঘরে বসবাস করছেন। তার স্ত্রীর নামে ৩০ কেজি ভিজিডি কার্ডও রয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে ঘর, বয়স্ক, বিধবা, ভিজিডি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী টাকার বিনিয়মে কার্ড দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় যুবলীগ নেতা জানান, আমি ঐ তালিকা প্রত্যেকটি যাচাই করে দেখেছি। ২২-২৩টি নামের মধ্যে স্বচ্ছল পরিবারে নাম অন্তূর্ভক্ত করেছে। এ থেকে প্রকৃত হতদরিদ্ররা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে।

ওয়ার্ডে দায়িত্বরত যাচাই-বাছায়ে থাকা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আমিন খান চেীধুরী জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সাথে নিয়ে যাচাই বাচাই করেছেন তিনি। তিনি এই তালিকা থেকে দুই একটি নাম দুইবার লেখা হয়েছে, তাছাড়া বাকীগুলো সব ঠিক আছে বলে জানান।

এ বিষয়ে ১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নাসের সরদারের কাছে ফোনে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

অত্র ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মাত্র ৮-৯টি নাম দিয়েছি। বাকী সব তালিকা নাসের মেম্বর করেছেন।

৩নং সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, আমি এখন শারিকিভাবে অসুস্থ। তবে বিষয়টি আমি দেখছি। এছাড়া ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা আছে। তিনি বিষয়গুলো যাচাই করে দেখছেন। আশা করছি আমার ইউনিয়নের তালিকা প্রনয়নে কোন প্রকার অনিয়ম, দূর্নীতি হবে না।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিয়োগকৃত সরুলিয়া ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাষ কুমার দাস জানান, যদি স্বচ্ছল পরিবার ও বিভিন্ন সুবিধাভোগীদের নাম অত্র তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়ে থাকে তাহলে তাদের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

নিজস্ব প্রতিবেদক। ডেক্স