তালায় বিভাগীয় মামলা থেকে রক্ষা পেতে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৌড়ঝাপ শুরু!

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ | আপডেট: ৯:৩৯:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, তালা(সাতক্ষীরা):
তালার ১৩৩ নং পশ্চিম খেশরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রকে ব্যপক শারীরিক নির্যাতন করায় শিক্ষক বিশ্বজিত দাশ’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অবশেষে নির্দেশ প্রদান করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারী এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তিনি ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে “কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবেনা” তার সন্তোষজনক জবাব প্রদানের জন্য-ও তিনি অভিযুক্ত শিক্ষককে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তবে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ঘটনাটি ধাঁমাচাঁপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগীতায় অভিযুক্ত শিক্ষক বিশ্বজিত ব্যপক তৎপরতা চালাচ্ছে বলে- অভিযোগ উঠেছে। এঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এবং অতিদ্রুত তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে।

সোহাগ মাল্টিমিডিয়া এন্ড ট্র্যাভেলস

জানাগেছে, তালা উপজেলার ১৩৩নং পশ্চিম খেশরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিশ^জিত দাশ’র বাড়ি একই গ্রামের দাশ পাড়ায়। যেকারনে তিনি প্রভাব বিস্তার করে বিদ্যালয়ে ইচ্ছামতো আসা-যাওয়া করে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়রা জানান, খেশরা স্বপ্নপূরণ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি গঠন করে তিনি কৌশলে উক্ত সমিতি পরিচালনা করেন। একারনে বিদ্যালয়ে সময় না দিয়ে তিনি সমিতির লেনদেন ও কার্যক্রম নিয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন।
এলাকাবাসী জানান, পশ্চিম খেশরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহাকারী শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাশ বরাবরই উগ্র স্বভাবের। ক্লাসে তাঁর উগ্রতার কারনে শিক্ষার্থীরা আতংকিত থাকে। গত ৬ ফেব্রুয়ারী তুচ্ছ ঘটনায় তিনি বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র খন্দকার তাছিনকে ব্যপাক মারপীট করে। এতে ছাত্রটি জ্ঞান হারানো সহ বমি করলে গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার’র নিকট অভিযোগ দায়ের করে। এপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং উক্ত সভায় নির্যাতক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে রেজ্যুলেশন কপি প্রেরন করা হয়। পরবর্তীতে তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুস্তাফিজুর রহমান ছাত্র নির্যাতন অভিযোগ’র প্রমান পেয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিশ্বজিৎ এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ জানিয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার’র নিকট পত্র প্রেরন করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রকে শারীরিক নির্যাতন করায় শিক্ষক বিশ^জিৎ দাশ’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিধি অনুযায়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত পত্রে উক্ত কৈফিয়ত তলব করা হয়।
এবিষয়ে জাতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাশ ছাত্র নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমিতো এজন্য অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।

সুন্দরবনটাইমস.কম/এমএ মান্নান


আপনার মতামত লিখুন :

নিজস্ব প্রতিবেদক