বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই সাতক্ষীরার সুতপার গান নজর কেড়েছে নেটিজেনদের

প্রকাশিত: ৪:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯ | আপডেট: ৪:২৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:
লকাতার রানাঘাটের গান গাওয়া রানু মন্ডলকে নিয়ে বেশ হইচই হয়েছে নেট দুনিয়ায়। রেলস্টেশন থেকে তিনি এখন বলিউডের গায়ক। রানু মন্ডল ওপার বাংলা মাতালেও তার ঢেউ রয়েছে এপারেও।
সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার কোদন্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী সুতপা সুষ্মিতা। কোদন্ডা গ্রামের মৃন্যাল মন্ডল ও সুমনা মন্ডলের কন্যা সুতপা সুষ্মিতা। সম্প্রতি কোদন্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে টিফিনের সময় শিক্ষকদের নির্দেশেই গানটি গায় সুতপা। প্রত্যান্ত অঞ্চলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী সুতপা যিনি অসাধারণ গান গাইছেন একেবারে সাবলীলভাবে, কোনো বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই। যা নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। ফেসবুকে খালি গলায় সুতপার গাওয়া গান। আর সে গান রেকর্ড করেন রঞ্জন সরকার নামে ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ফেসবুকে আপলোড করেন। এর পর ওই শিক্ষার্থীর প্রশংসায় মেতেছে সারা নেটদুনিয়া। হু হু করে ভাইরাল হচ্ছে তার গানটি।
ভিডিওতে সুতপা, উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী লতা মুঙ্গেশকারের কালজয়ী ‘যারে যারে উড়ে যারে পাখি ফুরালো প্রাণের মেলা শেষ হয় এলো বেলা আর কেন মিছে তোরে বেঁধে রাখি’ গানটি হৃদয় দিয়ে গাইছে সে। এতটুকুও ভুল নেই সুরে। যেখানে যেভাবে সুর ঢেলে দিতে হবে ঠিক সেভাবেই গাইছে ওই স্কুলছাত্রী সুতপা।
কোদন্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক যিনি সুতপা সুষ্মিতা গান রেকর্ড করে ফেজবুকে আপলোড করেন সেই রঞ্জন সরকার বলেন,সুতপার কন্ঠ আসলেই সুন্দর,মিষ্ট কন্ঠ তার গান আমাদের ভাল লাগে। টিপিনের সময় সুতপার অফিস রুমে ডেকে তার গান আমরা শিক্ষরা প্রায় শুনতাম। আমি তার গান মোবাইলে রেকর্ড করে ফেজবুকে আপলোড দিয়েছি। আমরা সুতপার মধ্যে অনেক প্রতিভা দেখছি। আমার আশা সে অনেক বড় শিল্পী হবে।
সুতপা সুষ্মিতা বাবা মৃন্যাল মন্ডল বলেন,ছোট বেলায় মোবাইলে গান শুনে নিজে গুন গুন করে গান গাইতে দেখি। পরে আমি হারমনিয়ার দিয়ে তাকে গানের তালিম দিলে সুতপা গান গাই। এই ভাবে চলে গানের তালিম। পরে স্থানীয় মান্নান নামের এক গানের শিক্ষক কাছে গানের তামিল নিচ্ছে। আমার আশা মেয়েকে বিশ্বখ্যাত শিল্পী হিসাবে গড়ে তোলতে পারি।
সুতপা সুষ্মিতা মা সুমনা মন্ডল বলেন,সুতপার পৃথিবীতে আগে থেকে সৃষ্টিকর্তার কাছে কামনা করতাম। আমার যেন কিংবদন্তি শিল্পী লতা মুঙ্গেশকারের মতো একটা মেয়ে হয়। সুতপা ছোট বেলা থেকেই গানের প্রতি ভালবাসা। তার গান ভাইরাল হওয়াতে আমার খুব ভাল লাগছে। সুতপা অনেক বড় শিল্পী হতে পারি।
আশাশুনি উপজেলার কোদন্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ও শিশু শিল্পী সুতপা সুষ্মিতা বলেন, ছোট বেলা থেকে গান ভালবাসি,আমার বাবা মারও খুব ইচ্চা আমি যেনো বড় মাপের শিল্পী হয়ে উঠি এমন আশা করেছেন এই শিশু শিল্পী সুপতা। আমার স্যার আমার গান ফেজবুকে ছেড়ে দিলে ভাইরাল হয়। তাতে আমার খ্বু ভালো লাগে। আপনার আমার জন্য দোয়া করবেন আমি বড় মাপের শিল্পী হতে পারি।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস.এম. মোস্তফা কামাল বলেন,এই অঞ্চলের শিল্প সাংস্কৃতির উন্নয়নে সুতপা সুষ্মিতার মত প্রতিভাবান শিল্পীদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থার করা হবে। প্রতিভাবান এসব শিল্পীদের যথাযথ মূল্যয়ান করতে পারলে তারাই একদিন বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের নাম পৌঁছে দিবে।

 

 

সুন্দরবনটাইমস.কম/শা:/সাতক্ষীরা


আপনার মতামত লিখুন :

নিজস্ব প্রতিবেদক